গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। রোববার (২৩ আগস্ট) দিনব্যাপী উপজেলার নোয়াপাড়া বিল ও চন্দনার বিলে এই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার মিটার অবৈধ ও ক্ষতিকর চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত সকল জাল স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
মৎস্য অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন বিলে পানি বাড়ার সাথে সাথে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী বা ঢাং জালের ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়। এই জালগুলো পানির নিচে এমনভাবে পেতে রাখা হয় যে, এতে অতি ক্ষুদ্র পোনা মাছ থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছ এবং জলজ কীটপতঙ্গ পর্যন্ত আটকা পড়ে মারা যায়। ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মৎস্য অধিদপ্তর কাশিয়ানী উপজেলার নোয়াপাড়া ও চন্দনার বিলে বিশেষ নজরদারি জোরদার করে এবং সরাসরি নৌকায় গিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
অভিযান চলাকালে বিলের গভীরে পেতে রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। তবে মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জাল স্থাপনকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা জালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযান শেষে বিল সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে এই নিষিদ্ধ জালগুলো ভস্মীভূত করা হয়।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসলাম হোসেন শেখ জানান, চায়না দুয়ারী জালকে মৎস্য সম্পদের জন্য নীরব ঘাতক বা মরণফাঁদ বলা হয়। এটি পানির তলায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী আটকে ফেলে প্রজনন চক্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। তিনি আরও বলেন, দেশের মূল্যবান মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, মা মাছ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি অবলম্বন করেছে। বিলুপ্তির হাত থেকে দেশীয় মাছ রক্ষায় কাশিয়ানীর প্রতিটি নদ-নদী ও বিলে এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।