সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ‘ব্লিস হাসপাতালে’ অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুরো হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জোহরের নামাজের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে হাসপাতালের নিচের অংশে রাখা একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই মুহূর্তের মধ্যে বিষাক্ত ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো হাসপাতাল ভবন। এতে ভেতরে থাকা রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে সবাই হুড়োহুড়ি করে বাইরে বের হতে থাকেন। এ সময় কালো ধোঁয়ার কারণে বেশ কয়েকজন রোগী সাময়িক অসুস্থ বোধ করেন।
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাতক্ষীরা উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, “আগুন লাগার বার্তা পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত অকুস্থলে পৌঁছায়। অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসাধীন সব রোগীকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অল্প সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “দুপুর ১টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ ও হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে ব্লিস হাসপাতালের পরিচালক আবু হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।