ফরিদপুরের নগরকান্দায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে কন্যাসন্তানটিকে আদালতের নির্দেশে ঢাকার সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসূতী বাজার এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। খবর পেয়ে ভারসাম্যহীন মা ও নবজাতকের পাশে দাঁড়ায় উপজেলা প্রশাসন। তবে শিশুটির বাবার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মা ও শিশুটির পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সার্বিক দায়িত্ব সরকার বহন করবে।
পরবর্তীতে জন্ম নেওয়া শিশুটির নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় গত ২৯ জুলাই টাঙ্গাইলের এক নিঃসন্তান দম্পতির জিম্মায় এক মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।
তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ফরিদপুর আদালতে শিশুটিকে পুনরুদ্ধারের (রিকুইজিশন) লিখিত আবেদন জানান। আবেদনের শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ঢাকার সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই নির্দেশনার কথা জানতে পেরে সোমবার (৩ আগস্ট) শিশুটিকে অস্থায়ী জিম্মায় নেওয়া সেই অসামান্য আকুলতা সম্পন্ন নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে সাথে নিয়ে আবারও নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন। এ সময় আদালতের নির্দেশনার কথা শুনে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শিশুটিকে নিজেদের জিম্মায় রাখার জন্য আকুল আকুতি জানান।
ঘটনার সত্যতা ও সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার বাধ্যবাধকতা থাকায় সোমবারই শিশুটিকে নিরাপদে ঢাকায় সেফ হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই মুহূর্তে প্রশাসনিকভাবে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।” তিনি ওই দম্পতিকে আদালতের নির্দেশনা মেনে শিশুটিকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানান এবং ভবিষ্যতে যথাযথ আইনি ও আদালত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে স্থায়ী দত্তক বা জিম্মায় নেওয়ার আবেদনের পরামর্শ দেন।