ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে হাসিনার মতো পরিণতি হবে

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর অযৌক্তিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (৩ নম্বর গেট) সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে ভারসাম্যহীন পরিবর্তন এনে মেধার অবমূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সুপারিশের সুযোগ তৈরির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রার্থীদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করার জোরালো দাবি তোলা হয়।
কর্মসূচিতে আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, “আমরা চাই দেশের সব নাগরিকের জন্য চাকরিতে সমান অধিকার বজায় থাকুক। কোনো নির্দিষ্ট দলীয় বা গোষ্ঠীর লোকজন সুবিধা পাবে—এমনটা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করি, আর কর্তৃপক্ষ হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা সরকারের বা ভাইভার বিরোধী নই, তবে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
প্রতিবাদ সমাবেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজ বলেন, “ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধারণ জনগণ বুঝে গেছে। অনতিবিলম্বে সরকারকে এই লিটমাস টেস্ট ও সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক উভয় অংশে সমান ৫০ নম্বর করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণগুলোতে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানিয়ে আসছেন।