“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং সফল মৎস্যচাষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এর পরপরই সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা অডিটরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড়, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আইয়ুব আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে কোটালীপাড়ায় ২০০৩ সালের দিকে আমি একটি মৎস্য প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম। আমার নিজেরও মাছের খামার রয়েছে, যেটির ওপর নির্ভর করেই আমার সংসার চলে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, একটি অসাধু মহল প্রতিনিয়ত আমাদের দেশীয় ছোট মাছ ধ্বংস করে চলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে নাকি লেজার লাইটের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক দিয়েও মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই অনতিবিলম্বে আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি জোরদার সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠান শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থানীয় সফল মৎস্যচাষীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।