বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপরে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিক্ষার্থী মো. রিফাত চাপরাশি (১৮) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। গত ৯ আগস্ট (রবিবার) বিকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর চাচাতো ভাই মো. সিফাতের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত একই দিন রাত ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বরিশালে একটি কফি শপের ট্রেনিং নিতে বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের বাড়ি থেকে দুপুর ১টায় রওয়ানা দেন দুই চাচাতো ভাই রিফাত ও সিফাত। আর মাত্র তিন দিনের ট্রেনিং বাকি ছিল তাদের। সেন্ট আলফ্রেড্স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রিফাত ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবা মো. জামাল চাপরাশি একজন সৌদি প্রবাসী। বাবার কাছেই সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পথিমধ্যে বিকেল ৪টার দিকে দপদপিয়া সেতুতে তাদেরকে বহনকারী মাহিন্দ্রাটি বিআরটিসি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের কবলে পড়ে।
ছেলের অকাল মৃত্যুর খবর পেয়ে সৌদি আরব থেকে জরুরিভিত্তিতে দেশে ফিরেছেন শোকার্ত বাবা জামাল চাপরাশি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেউ তাঁদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে রিফাতের মা রুবি বেগম বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়ছেন এবং কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। তিনি আরও বলেন, রিফাত অত্যন্ত বাধ্যগত ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল; সে ঘরের কাজেও মাকে সাহায্য করত।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সিফাতের চিকিৎসাসেবা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিফাতের মামা মো. মহসিন খান। তিনি জানান, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গত ১১ আগস্ট সিফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেছেন চিকিৎসকেরা। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের জন্য নিরলস কষ্ট করে যান, অথচ প্রবাসী জামাল ভাইয়ের একমাত্র সম্বল সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি আজ নিঃস্ব হয়ে গেল। তিনি সিফাতের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মধ্যে সংঘটিত এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১ জন নিহত ও ৪ জন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়।