সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ আলোচনা সভায় প্রশাসনের অবহেলার জবাবে শিক্ষার্থীদের তীব্র তোপের মুখে পড়েন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা।
আলোচনা চলাকালে শিক্ষার্থীরা দ্রুত প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট তিন দফা দাবি পেশ করেন এবং বিকেল ৫টার মধ্যে তা মেনে নেওয়া বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে পুনরায় মহাসড়ক অবরোধের কড়া আল্টিমেটাম দেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ, দুর্ঘটনা ও ইয়াসিনের মৃত্যুর নেপথ্যে সওজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে। আহত অবস্থায় শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পড়ে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি এসে খোঁজ নেননি। সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় প্রেরণের উদ্যোগ নিলে হয়তো ইয়াসিন বেঁচে যেতেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিন দফা দাবি হলো—
১. নিহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের পরিবারকে এক কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
২. দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৩. জরুরি মুহূর্তে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে না পারার দায়ভার উপাচার্যকে প্রকাশ্যে গ্রহণ করা।
এদিকে সভা চলাকালে উপাচার্যের কক্ষে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিমের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তোপের মুখে পড়ে ওই ছাত্রদল নেতা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাসেল ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব জানান, দুর্ঘটনার মতো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। তাদের উদাসীনতা ও বিলম্বিত পদক্ষেহই সহপাঠীর জীবন কেড়ে নিয়েছে। বিকেল ৫টায় প্রশাসন ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও গাফিলতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির জানান, খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ঢাকায় অবস্থানরত প্রক্টর নিজে ঢামেকে আহত শিক্ষার্থীর পাশে ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন। তবে কোনো ভুলত্রুটি বা অবহেলা থাকলে তা তারা মেনে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিলেও সড়ক জটের কারণে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে এসি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এ ছাড়া বিজয় চব্বিশ হলের প্রভোস্ট ও প্রক্টরকে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।