নোয়াখালীতে ডাকাতির তিন দিন পর ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ভাগের নগদ ৩৯ হাজার টাকা, একটি লোহার স্টিক এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত ও ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধনু মেস্ত্রী বাড়ির মো. ইব্রাহিমের ছেলে বাকের হোসেন ওরফে অনু (৩২), একই ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মোস্তফার ছেলে কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮), অশ্বদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকার সামছুল হকের বাড়ির মজিবুল হকের ছেলে সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) এবং তার ভাই মহিবুল ইসলাম আসিফ (২৫)।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন ফরহাদের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ও কাঠের দরজা ভেঙে আট সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন, একটি লকেট, একটি স্বর্ণের আংটি, একটি রুপার ব্রেসলেট, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন ফরহাদ বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে গঠিত বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা থেকে বাকের হোসেন ওরফে অনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
একই দিন বিকেলে নোয়াখালীর দরবেশপুর এলাকা থেকে কোরবান আলী ওরফে দুলাল এবং পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকা থেকে সাইদুল হক ওরফে আরিফ ও মহিবুল ইসলাম আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সাইদুল হকের কাছ থেকে এক হাজার টাকার দুটি নোট ও ৫০০ টাকার ৭৪টি নোটসহ মোট ৩৯ হাজার টাকা এবং একটি লোহার স্টিক উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থ ডাকাতির ঘটনায় তার ভাগে পাওয়া টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ডাকাত দলে মোট আটজন সদস্য ছিল। ডাকাতির আগে তারা সাইদুল হকের একটি প্রকল্পে একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা করে এবং পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত করে।
পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধেই ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে বাকের হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি, কোরবান আলীর বিরুদ্ধে ১২টি, সাইদুল হকের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মহিবুল ইসলাম আসিফের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি কোরাবারি ও একটি ভাঙা তালাও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চার আসামিকে ডাকাতি মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।