জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভোট গ্রহণ যেভাবে হয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফলেও যদি একই ধারা বজায় থাকে, তাহলে জামায়াত তা মেনে নেবে—অন্য কোনো দল মানুক বা না মানুক। বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনার সময় মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে অগ্রিম মন্তব্য করা সমীচীন নয় এবং জনগণের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। প্রাথমিক ফলে জামায়াতের পক্ষে আভাস পাওয়া গেলেও সেটিই চূড়ান্ত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান জামায়াত আমির। তাঁর ভাষ্য, নানা শঙ্কা ছড়ানো হলেও বড় ধরনের কোনো কেলেঙ্কারি হয়নি; কিছু ভুলভ্রান্তি থাকলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক অংশ নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন তিনি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সব দলকে সহযোগী হিসেবে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে দুপুরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “সরকারটা হোক জনগণের—কোনো দল, ব্যক্তি বা পরিবারের নয়; ১৮ কোটি মানুষের সরকার কায়েম হোক।”
ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কিছু দুর্বলতা এবং কিছু অনিয়ম থাকলেও নির্বাচন দেশবাসীর কাছে উপভোগ্য ছিল। মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে কয়েকটি আসন ও কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান যোবায়ের। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নেতাদের পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।