সিলেট বিভাগের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় ফলাফলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিভাগের চারটি জেলার মোট ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেতে চলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। রাত ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কোনো আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ধানের শীষের একচেটিয়া আধিপত্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে, বিভাগের কোথাও জয়ের মতো অবস্থানে নেই তারা। একমাত্র ব্যতিক্রম সিলেট-৫ আসন, যেখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছেন বলে জানা গেছে।
জেলাওয়ারী ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে। সিলেট-১ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনে এম এ মালেক, সিলেট-৪ আসনে প্রবীণ নেতা আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরী জয়ের পথে রয়েছেন। সিলেট-৫ আসনে জোটের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসানের জয় প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়জয়কার। সুনামগঞ্জ-১ এ কামরুজ্জামান কামরুল, ২-এ নাসির উদ্দীন চৌধুরী, ৩-এ কয়সর আহমেদ, ৪-এ নুরুল ইসলাম নুরুল এবং ৫-এ কলিম উদ্দিন মিলন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে আছেন।
বিভাগের অন্য দুই জেলা মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও একই চিত্র। মৌলভীবাজার-১ আসনে নাসির উদ্দিন মিঠু, ২-এ শওকতুল ইসলাম শকু, ৩-এ এম নাসের রহমান এবং ৪-এ হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। হবিগঞ্জ-১ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, ২-এ ডা. সাখাওত হাসান জীবন, ৩-এ জি কে গউছ এবং ৪-এ এস এম ফয়সল বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের দেয়া তথ্যমতে, এই ফলাফল এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে।