দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য ও সমীকরণে এক নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো গোপালগঞ্জ। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা, যা স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোপালগঞ্জ-১, ২ ও ৩—তিনটি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ের হাসি হেসেছেন। ভোরের বাণীর পাঠকদের জন্য নির্বাচনী ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।
নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী আংশিক) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই জয়কে তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার জবাব ও অধিকার আদায়ের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ-২ (সদর-কাশিয়ানী আংশিক) আসনে চমক দেখিয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. কেএম বাবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. বাবরের ক্লিন ইমেজ, পেশাগত সুনাম এবং তৃণমূলের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ তাকে এই অভাবনীয় সফলতা এনে দিয়েছে। এই আসনে ধানের শীষের বিজয় গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসন, যা ঐতিহ্যগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর বিজয়কে নেতা-কর্মীরা ‘ঐতিহাসিক পুনর্জাগরণ’ হিসেবে দেখছেন। বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এস এম জিলানী সমর্থকদের শান্ত থাকার ও নির্বাচনী এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ এবং সাধারণ ভোটারদের রায় প্রদানের সুযোগ এই পরিবর্তনের মূল কারণ। জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আনন্দ মিছিল হলেও, কেন্দ্রীয় নির্দেশে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও সংযম প্রদর্শনে স্থানীয় নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে যাচাই-বাছাইপূর্বক এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।