গোপালগঞ্জে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩০

গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পড়ে চালকের সহকারী (হেলপার) নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল হর্টিকালচার সেন্টারের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হেলপারের নাম মো. নাঈম হাওলাদার (১৮)। তিনি খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গার ময়লাপোতা পৌর কলনীর বাসিন্দা এবং মো. বিল্টু হাওলাদারের ছেলে।
গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমান মোল্লা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আরমান পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস একটি প্রাইভেটকারকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে যায়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আশেপাশের সেনা সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলপার নাঈম হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এসআই রোমান মোল্লা আরও জানান, “এ ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত হেলপারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের এই অংশে যানবাহনের গতি অনেক সময় অতিরিক্ত থাকে। রাস্তার বাঁক ও আলো স্বল্পতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁরা দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত স্পিডব্রেকার ও ট্রাফিক সাইন বসানোর দাবি জানিয়েছেন।