মাগুরা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদী কচুরিপানায় পূর্ণ হয়ে পড়ায় নদীপথে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে নৌপথে পারাপার হওয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট।
জানা গেছে, মাগুরা জেলার শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী নৌকা ব্যবহার করে নদী পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করত। কিন্তু বর্তমানে নদীটি ঘন কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ায় নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে ১০ কিলোমিটার ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় এই নবগঙ্গা নদীতে স্টিমার চলত। তবে কালের বিবর্তনে নদীটি ভরাট হয়ে পড়ে এবং গত বছর সেটি খনন করা হলেও, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন তা আবার কচুরিপানায় আবৃত হয়ে গেছে। নদীর কয়েক কিলোমিটারজুড়ে কচুরিপানার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির কারণে শুধুমাত্র শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ মানুষ নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছে না, নদীতে গোসল করতে পারছে না। মৎস্যজীবীরাও বড়শি ও জাল ফেলে মাছ ধরতে পারছেন না। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই অবস্থায় দুই শতাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন।
নদীর তীরবর্তী প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বর্তমানে চরম ভোগান্তির শিকার। বন্ধ হয়ে গেছে লঞ্চ ও নৌকা চলাচল। এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত নবগঙ্গা নদী কচুরিপানা মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।