নোয়াখালীতে পুকুরের পানিতে ভাসছিল নারীর মরদেহ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পুকুর থেকে এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম রোকেয়া পারভীন সুরমা (৬০)। তিনি সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সুরমা মঞ্জিলের নুরুল মতিনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরশুরামপুর গ্রামের ভূঁঞা বাড়ির সামনে অবস্থিত একটি পুকুরে মরদেহটি ভেসে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পথচারীরা পুকুরে একটি মরদেহ দেখতে পান। তারা দ্রুত আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সুরমা দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে ভুগছিলেন। প্রায়ই তিনি আচরণগত সমস্যায় ভুগতেন এবং মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচিও করতেন। ঘটনার আগের দিন, বুধবার রাতে তিনি ঘরে অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে যান। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, নিহতের ছেলে মনিরুল আহসান আমাদের জানিয়েছেন, তার মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, তার মরদেহ পুকুরে পাওয়া যায়। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, হাঁটার সময় পুকুরে পড়ে গিয়ে সুরমার মৃত্যু হতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, মানসিক বিভ্রান্তির কারণেও তিনি দিকভ্রান্ত হয়ে পুকুরে পড়ে যেতে পারেন।
সিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল মানসিক রোগ, যা মানুষের চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা ও পারিবারিক পর্যবেক্ষণ জরুরি, বিশেষ করে তারা যদি প্রবীণ হন। এ ঘটনা মানসিক রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।