ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় সোয়াইল দাখিল মাদরাসায় গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে সভাপতি করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার ভালুকা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাদরাসার জমিদাতা পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার দাতা সদস্য আকতার হোসেন খান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। মাদরাসার সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম আকন্দ গোপনে প্রস্তাবিত কমিটি বোর্ডে পাঠান এবং ২৪ জুন মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে সেই কমিটির অনুমোদন আসে।
নতুন কমিটিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলী হোসেন খানকে সভাপতি এবং তার ছেলে যুবলীগ নেতা আজম খানকে দাতা সদস্য করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও আওয়ামী লীগ পরিবারের ঘনিষ্ঠ। তারা আরও জানান, আজম খান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন মাদরাসা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ফলে পুরো কমিটিকেই পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সুপার বিপুল অর্থের বিনিময়ে এবং বিধি লঙ্ঘন করে কমিটি গঠন করেছেন। এ নিয়ে দাতা পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করে শিক্ষানুরাগী, নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হচ্ছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম আকন্দ। তিনি বলেন, “কমিটি গঠন পুরোপুরি বিধিমাফিক হয়েছে, কোনো অনিয়ম করা হয়নি। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নই।”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল জানান, তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক এবং কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমিটি গঠনের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।
এই ঘটনার পর মাদরাসা কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এমন প্রক্রিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতির অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করে এবং শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।