নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার অন্যতম বৃহৎ কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া ওসমানিয়া মাদ্রাসা তাদের কার্যকরী কমিটি ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় মাদ্রাসার শিক্ষক হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমাদের সম্মানিত কার্যকরী কমিটির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা।”
তিনি জানান, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ওসমানিয়া মাদ্রাসাটি ফকিহুল মিল্লাত মুফতী আব্দুর রহমান (রহ.)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদ্রাসাটি চাটখিলসহ পুরো অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৪ জুন ২০২৫ বিকালে কার্যকরী কমিটির ৩৩তম সভাকালে কিছু লোক সভাস্থলে অশোভন আচরণ করেন এবং পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা তথ্যসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন। এতে মাদ্রাসার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সুনাম হুমকির মুখে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ২০১৬ সালে একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং তা মজলিশে শুরায় উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। এই সংবিধানের ব্যাখ্যা ভুলভাবে উপস্থাপন করে যারা কার্যকরী কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
শাইখুল হাদীস মুফতী মুহা. আছেম সাহেব সম্পর্কে সম্প্রতি যে রাজনৈতিক তকমা ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে, সেটিও ‘পুরোপুরি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন শিক্ষকবৃন্দ। তিনি জামেয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সর্বদা মাদ্রাসাকে অরাজনৈতিক রাখতে সচেষ্ট ছিলেন।
শিক্ষকমণ্ডলী স্মারকলিপির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করাকে ‘দ্বীনের সাথে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অপপ্রচারকারীদের দুঃখ প্রকাশ ও স্মারকলিপি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
পরিশেষে, মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইউছুফ সাহেব ও শাইখুল হাদীস মুফতী মুহা. আছেম সাহেব মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দ্বীনি পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করেন।