গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

মো: শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক সিরাজুল ইসলাম মুন্সির। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর ‘হেমায়েত বাহিনী’র সাহসী যোদ্ধা।
মরহুম সিরাজুল ইসলাম মুন্সি উপজেলার হিরণ গ্রামের মৃত আবুল কাশেম মুন্সির ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে কোটালীপাড়া জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন সিরাজুল ইসলাম মুন্সি (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
মৃত্যুর পর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর সেক্টরের রাইন খোলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে, বাদ এশা। পরে আজ সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় নিজ গ্রাম হিরণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
দাফনের সময় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃ দাঃ) মাসুম বিল্লাহ এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ বাহিনীর চৌকস দল মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানায়।
মরহুমের শেষ বিদায়ে পরিবার-পরিজন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করে। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা, এক পুত্র, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, হেমায়েত বাহিনী ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক দুর্ধর্ষ দল, যারা পশ্চিমবাংলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণে নেতৃত্ব দেয়। সিরাজুল ইসলাম মুন্সি ছিলেন এই বাহিনীর অন্যতম সাহসী সদস্য, যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য।
রাজবাড়ীর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলাও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, আর এই বীর যোদ্ধার মৃত্যু সেই ইতিহাসের আরও একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।