কাউখালী বিএনপির আহবায়ককে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, তারেক রহমানের কাছে অভিযোগ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম আহসান কবির-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন, যা নিয়ে এখন দলের অভ্যন্তরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আজম দুলাল। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এস এম আহসান কবির দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য, শালিস বাণিজ্য সহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কোনো কর্মসূচি রাজপথে পালন না করে, বরং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নানা সুবিধা আদায় করেছেন তিনি। এমনকি বিএনপি অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ একাধিক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আপোস-রফার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া ছাত্রদল নেতার খুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তার ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব তদন্ত করলে কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলবে। তার ঘনিষ্ঠজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি নিয়ন্ত্রণ, শালিশের নামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, এমনকি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তার পরিবারের। এমনকি, থানা পুলিশের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা থাকায় সাধারণ মানুষ আইনি সহায়তা পেতে তার কাছেই যেতে বাধ্য হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম আহসান কবির অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “এসব বেনামি অভিযোগ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি সবসময়। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকায় বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে হয়েছে, সেখানকার ছবি নিয়ে ভুল বোঝানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দ্বিন মোহাম্মদ জানান, আগামীকাল উপজেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে তারা ব্যস্ত, ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে রাতে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভিযোগ দেয়া হলে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তবে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।