টুঙ্গিপাড়ায় এক ইন্সুরেন্স কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পরকীয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী দুই পরিবার।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। তার অধীক্ষক কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের কাছে নিয়মিত উত্তোলিত টাকা জমা দিলেও, তিনি সেই টাকা অফিসে জমা দেননি। পরে অফিসের অডিটে গরমিল ধরা পড়লে তাকে দায়ী করে চাপে ফেলা হয়।
শারমিন জানান, সাইদুর রহমান শুধু অর্থ আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তার ড্রয়ার থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরিয়ে তাকে জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করান। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
একইদিন আরেক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দা তাবাসসুম খান অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী হালিমা খানম, যিনি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেন, তার সঙ্গে সাইদুর রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তাবাসসুম খানের অভিযোগ, তার স্ত্রী সাইদুরের প্রভাবে ৩০ লাখ টাকার কথিত লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি আরও জানান, হালিমা খানম স্থানীয় আরও কিছু পরিবারকে ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা আদায় করেন, যা পরবর্তীতে সাইদুর রহমানের কাছে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে ওই পরিবারগুলো টাকা ফেরত চেয়ে চাপ দিচ্ছে, ফলে তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় মহলে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত আইনি সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।