দীর্ঘ ১৭ বছর পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বহুল প্রতীক্ষিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় বিএনপির এই রাজনৈতিক আয়োজন ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সোমবার (৩০ জুন) টুঙ্গিপাড়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজন করা হয় এই সম্মেলনের। দীর্ঘদিন পর এমন বড় পরিসরে বিএনপির কোনো কর্মসূচি এখানে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর হোসেন এবং সেলিমুজ্জামান সেলিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিনু, বঙ্গবন্ধু কলেজের সাবেক ভিপি চৌধুরী মঞ্জুরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কাউন্সিলর এম মাহাবুব আলী সোহেলসহ জেলা ও থানার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, “বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। আমরা বাকস্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বিগত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করেছি।”
এস এম জিলানী আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। স্বৈরাচারী সরকার জনগণের রোষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কোটালীপাড়ার মতো টুঙ্গিপাড়াতেও আমরা সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।”
সম্মেলন শেষে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির ২ বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। মোঃ সালাহউদ্দিন শেখ সভাপতি এবং শেখ মনিরুজ্জামান বাবলু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মোঃ এমদাদ হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জিহাদুল ইসলাম বাবু।
বিকেল ৫টায় টুঙ্গিপাড়া মাল্টিপারপাস সুপার মার্কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটিরও ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, যিনি এ কমিটি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, টুঙ্গিপাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় এই অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। সেখানে বিএনপির এমন জনসমাগম ও সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াটা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা।
এ সম্মেলন বিএনপির শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং মাঠে সক্রিয় রাজনীতির নতুন সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।