নড়াইলে চিত্রশিল্পী সমীর মজুমদার এঁর স্বরণে সভা অনুষ্ঠিত

নড়াইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গুণী চিত্রশিল্পী ও এস.এম সুলতান শিশুস্বর্গের চিত্রাংকন বিভাগের শিক্ষক শিল্পী সমীর মজুমদারের অকালপ্রয়াণে শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আবেগঘন আয়োজনটি হয় নড়াইলের শিশুস্বর্গ অডিটোরিয়ামে, এস.এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার উদ্যোগে। সহযোগিতায় ছিল জেলা প্রশাসন, নড়াইল এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই সভার শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রয়াত শিল্পীর স্মৃতিতে। অনুষ্ঠানে বক্তারা সমীর মজুমদারের শিল্পকর্ম, মানবিক গুণাবলি ও শিক্ষাদানে নিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এস.এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা ও শিশুস্বর্গের কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী। তিনি বলেন, “সমীর মজুমদার শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, শিশুদের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রেরণার মানুষ।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার, যিনি এস.এম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “সমীর মজুমদার নড়াইলের শিল্পজগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার এ.বি.এম মনোয়ারুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার মো. রাকিবিল বারী, চিত্রশিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, বলদেব অধিকারী, গৌতম কুমার বিশ্বাস, উজ্জ্বল খান, বিধান কুমার সাহা, পরশ রহমান ও এস.এম সুলতান কমপ্লেক্সের সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ওশান পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, এস.এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ হানিফ, নড়াইলের বিভিন্ন পেশার মানুষ, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও চিত্রশিল্পী সমাজ।
সভায় বক্তারা সমীর মজুমদারের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ ও তাঁর শিক্ষাদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, “শিল্পী সমীর মজুমদার নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শ নড়াইলের সংস্কৃতির অংশ হয়ে থাকবে।”