গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় স্বামীর সঙ্গে তালাকের মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় এক নারী তার পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন—এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি ঘিরে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার দক্ষিণ হিরন গ্রামের খায়রুল মোল্লার (৩০) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চিতশী গ্রামের জেসমিন বেগমের (২৫) প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। খায়রুল পেশাগত কারণে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন।
এ সুযোগে জেসমিনের সঙ্গে একই গ্রামের হাসিব শেখের (২৫) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে হাসিব গোপনে জেসমিনের ঘরে প্রবেশ করলে তারা অনৈতিক অবস্থায় ধরা পড়েন। এরপর জেসমিনের পরিবারের সদস্যরা তাদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখেন।
বুধবার বিকেলে গ্রাম্য সালিস বসে। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সালিসে খায়রুলকে স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। তালাকের মাত্র দুই ঘণ্টা পর ঘাঘর বাজারে জেসমিন ও হাসিবের বিয়ে সম্পন্ন হয়। দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ টাকা।
এই ঘটনা শরিয়ত ও আইন অনুযায়ী বৈধ নয় বলে মত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খান চমন-ই-এলাহী। তিনি বলেন, “তালাকের পর নারীর জন্য ইদ্দত পালন ফরজ। সেটি না মেনে বিয়ে করলে তা শরিয়ত ও দেশের আইন অনুযায়ী বৈধ নয়।”
কোটালীপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন, কেউ বলছেন, এটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।