তেঁতুলিয়ায় সার মজুদের অভিযোগ, দেখেও ব্যবস্থা নিল না কৃষি বিভাগ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সরকারি অনুমোদনহীনভাবে সার মজুদ করার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঘটনার খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করলেও কোনো প্রকার আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে গেছেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকেলে, উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের কালান্দিগঞ্জ বাজারে। সেখানে বিএডিসির অনুমোদিত দুই ডিলার—সেলিম হোসেন ও রবিউল ইসলাম—তাদের দোকানে ট্রাকভর্তি সার এনে আনলোড করছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগ ওঠে, এই সার মজুদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও তা গুদামে তোলা হচ্ছিল।
স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইলিয়াস ফারুক এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আজাদ হোসাইন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কর্মকর্তারা দোকানদারদের লাইসেন্স ও অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলেও ব্যবসায়ীরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন।
এরপরও কর্মকর্তারা কোনো রকম জরিমানা বা ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—কর্মকর্তারা ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করেই’ ফিরে গেছেন কিনা।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে, তারা হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন। ব্যবসায়ীদের লোকজন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলেও দাবি সাংবাদিকদের।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইলিয়াস ফারুক বলেন, “আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আপনাদের মধ্যেও কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন। আমরা আবার যাচ্ছি, দেখা করে কথা বলতে পারেন।” তবে তিনি কেন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, সে প্রশ্নের কোনো সরাসরি জবাব দেননি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “ঘটনাটি জেনে কৃষি বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন, “ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন। আজ রাতের মধ্যেই কী করা যায়, সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।”
সার মজুদের এই ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তারা ন্যায্য দামে সার পাবেন না, যার প্রভাব পড়বে ফসল উৎপাদনে।