গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৭২ জন ফিলিস্তিনির

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) লাগাতার বিমান হামলায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র এক দিনে এই হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৭২ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও ২৭৮ জন।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, তবে মানবিক সহায়তা ও নিরাপদ পথের অভাবে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এই সংঘাতের সূচনা। সেদিন হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। এর জবাবে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ, যা এখনো থামেনি।
১৫ মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ৫৪ হাজার ৩২১ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৭০ জন ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু, যা পরিস্থিতির মানবিক বিপর্যয়ের গভীরতা নির্দেশ করে।
যদিও চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশের চাপে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, তবে তা টিকেনি বেশিদিন। গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার অভিযানে আরও প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮২২ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার।
ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখনও ৩৫ জন জিম্মি জীবিত আছেন এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমেই তাদের উদ্ধার করা হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ বারবার ইসরায়েলকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানালেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন—‘হামাস পুরোপুরি দুর্বল ও অকার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফের দুই মাসের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব উঠেছে আলোচনায়। যদিও নেতানিয়াহু সম্মত হয়েছেন, হামাস এখনো তাতে সাড়া দেয়নি।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) মামলা হয়েছে।
এই যুদ্ধ শুধু ফিলিস্তিন বা ইসরায়েলের নয়—এর প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র বিশ্বে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কত প্রাণ ঝরলে থামবে এই রক্তাক্ত লড়াই?