বরিশাল নগরীতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় প্লাস্টিকের একটি জারের (বয়াম) ভেতর থেকে দুই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া নবজাতক দুটির মধ্যে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নগরীর নতুন বাজার এলাকার ফরেস্ট অফিসের সামনের সড়ক থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরের নতুন বাজার সংলগ্ন সড়কের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ করছিলেন। ফরেস্ট অফিসের সামনে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কারের সময় তাদের চোখে পড়ে একটি মুখবন্ধ স্বচ্ছ প্লাস্টিকের জার। কৌতূহলবশত সেটির ভেতরে তাকাতেই তারা দুটি নবজাতকের নিথর দেহ দেখতে পান। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং দ্রুত বিষয়টি স্থানীয়দের ও পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্লাস্টিকের জারসহ নবজাতক দুটির মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য হেফাজতে নেন। উদ্ধার হওয়া নবজাতক দুটি জমজ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে নবজাতক দুটিকে রাতের আঁধারে এভাবে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, লোকচক্ষুর অন্তরালে পাপ বা কোনো অপরাধ ধামাচাপা দিতেই নির্জন এই সড়কের ময়লার স্তূপে জারভর্তি নবজাতকের মরদেহ ফেলে যাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবজাতক দুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে এমন অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ পুরো নগরীতে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিবেকহীন এই কাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।