মাদারীপুরের কালকিনিতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বাদী নাদিয়া সুলতানা মুন্নিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুর শহরের একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নাদিয়া সুলতানা মুন্নি।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব কালাই সরদারের চর এলাকার হান্নান মিয়ার মেয়ে নাদিয়া সুলতানা মুন্নির সঙ্গে একই এলাকার রফিকুল ইসলাম, মান্নান বেপারীসহ কয়েকজনের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি রফিকুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে নাদিয়ার বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ। এ সময় বাধা দিতে গেলে নাদিয়াসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর নাদিয়া কালকিনি থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রফিকুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে ১ মার্চ মামলাটি কালকিনি থানায় রেকর্ড করে পুলিশ।
পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালকিনি থানার উপপরিদর্শক আবু তালেব মুন্সী রফিকুল ইসলাম, মান্নান বেপারী, আলী বেপারীসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে মামলায় সঠিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়নি দাবি করে নাদিয়া আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত নারাজি গ্রহণ করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
নাদিয়ার অভিযোগ, নারাজি দেওয়ার পর থেকেই আসামিপক্ষের লোকজন তাকে ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাদিয়া সুলতানা মুন্নি বলেন, তাঁর স্বামী গত ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে তাঁর ভাসুর মান্নান বেপারীর সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ২০২২ সালে তিনি ১৬ শতাংশ জমি কিনলেও তা বুঝে পাননি। পরে আদালতে মামলা করে রায় নিজেদের পক্ষে পাওয়ার পর জমি দখলকে কেন্দ্র করে ৯ জানুয়ারি হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
নাদিয়া বলেন, “বর্তমানে আমি ছয় মাসের গর্ভবতী। আমাকে ও আমার সন্তানকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমি চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, বাদীকে হত্যার হুমকির বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বাদী নিরাপত্তার বিষয়টি থানাকে জানালে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।