নোয়াখালীর চাটখিলে ঘুষের বিনিময়ে সরকারি দপ্তরকে প্রভাবিত করে জোরপূর্বক ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আব্দুল লতিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পৌর তহসিল ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করার প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই জালিয়াতির চক্র ভেঙে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী এখন মুখোমুখি অবস্থানে।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চাটখিল উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সম্মুখ সড়কে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল লতিফ দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক অর্থ লেনদেন ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনের কতিপয় অসাধু পথকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ শরিকদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছেন। এই অবৈধ ভূমিলোভী চক্রের কারণে প্রকৃত ওয়ারিশরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মানববন্ধন কর্মসূচী শেষে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অভিযুক্ত আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আশু আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন ভুক্তভোগীরা।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীর চাটখিলসহ গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই পৈতৃক বা ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে জালিয়াতি এবং স্থানীয় ভূমি অফিসগুলোকে বিভ্রান্ত করে জমি দখলের নানামুখী অভিযোগ উঠে আসছে। সাধারণ ভুক্তভোগীরা প্রায়শই অভিযোগ করেন যে, একটি অসাধু চক্র ভুয়া কাগজপত্র ও অর্থের জোরে প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে। এ জাতীয় ভূমি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত আইনি ও সামাজিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।