বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট/২২ শ্রাবণ) দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ভাবগম্ভীর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির সূচনায় সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এ স্থাপিত বিশ্বকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সকল হলের প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুল।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সংগীত বিভাগের সার্বিক আয়োজনে এক বিশেষ সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান দেবশ্রী দোলনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে রবীন্দ্র-সাহিত্য ও দর্শনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির কণ্ডারি নন, তিনি বিশ্বমানবতার এক অনন্য প্রতীক। তাঁর মহৎ সাহিত্য, উচ্চমার্গীয় দর্শন, শিক্ষা-ভাবনা এবং মানবকল্যাণের আদর্শ আজও আমাদের ব্যক্তিজীবন, সমাজকাঠামো ও রাষ্ট্রচিন্তায় সমভাবে প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যই হলো রবীন্দ্র-ভাবধারার প্রসার, গবেষণা এবং তাঁর জীবনদর্শন চর্চাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নেওয়া। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রবীন্দ্রচর্চার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও প্রগতিশীল মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শন আমাদের মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগের নিরন্তর প্রেরণা যোগায়। নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্র-দর্শন ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও নানা গবেষণা, সেমিনার ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
আলোচনা সভা শেষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীত, কাব্য আবৃত্তি ও সুরের মূর্ছনায় নৃত্যনাট্যের এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সম্পূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর চিরন্তন আদর্শ বুকে ধারণ করার দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।