সংকট বিএনপি তৈরি করেছে, সমাধানও তাদেরই করতে হবে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিএনপিকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭০ শতাংশ জনরায় বাস্তবায়নে বিএনপি গড়িমসি করছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণভোটে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপরও যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনরায় উপেক্ষা করা হয়, তাহলে দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ধাবিত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের মৌলিক বিষয়ে বিএনপি যে ভিন্নমত দিয়েছিল, তা জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল সেই জনরায় মেনে নেওয়া। কিন্তু তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিয়ে এবং বৈঠক বর্জন করে একটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এই সংকট নিরসনের চাবিকাঠি এখন বিএনপির হাতেই রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলমান সংসদ অধিবেশনেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব। পার্লামেন্টে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য পথ বের করা যেতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, সরকারের বয়স মাত্র এক মাস হলেও ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলীয় নেতারা রাজপথের আন্দোলন দমনের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি এটিকে “আওয়ামী লীগের ভাষা” ও “ফ্যাসিবাদের ভাষা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করা হলে রাজপথে নামা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাংবিধানিক পদে নিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও বিএনপির ভিন্নমতকে সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এতে দলটির কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে।
দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে, অথচ সংসদে মন্ত্রীরা কোনো সংকট নেই বলে দাবি করছেন। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৃষিতে সেচ সংকট তৈরি হওয়ায় খাদ্যপণ্যের দামে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ভোলায় জামায়াতের এক নারী নেত্রীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে প্রতিবন্ধী সন্তানকে রেখে একজন নারীকে হাতকড়া পরানো অমানবিক। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সার্জিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা।