সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা—প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার। তবে দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থাপনা রক্ষায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক এর নেতৃত্বে শান্তিপুর নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে। এসময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—
সদর ইউনিয়নের গাজিপুর গ্রামের রুবেল মিয়া (পিতা: মুসলিম মিয়া)
একই গ্রামের জাকির হোসেন (পিতা: মজনু মিয়া)
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারেকটিলা গ্রামের জুলহাস মিয়া (পিতা: হযরত আলী)
পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরুখ আলম শান্তনু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তিনজনকেই তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “হাওর রক্ষা ও নদী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদভাণ্ডার। এখানকার নদী, খাল ও হাওর শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, হাওরাঞ্চলের জমি ও বসতভিটার ওপর তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি। তাই স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি জাগালেও সচেতন মহল বলছেন, এর স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন।