কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল ফের দখলে প্রভাবশালীরা! প্রশাসনের অভিযানের পরও কুশলা-রাধাগঞ্জ খালে আবার বাঁধ

সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা-রাধাগঞ্জ সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। খালের ওপর নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং বাঁধ কেটে প্রায় এক কিলোমিটার খাল উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ফের খাল দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহলের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীরা এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, কুশলা ইউনিয়নের বিরামকান্দি গ্রামের কালাচাঁদ কারিকর ওরফে ফকির (৬০) সরকারি খালের অংশ নিজস্ব জমি বলে দাবি করে পুনরায় দখলে নিয়েছেন। তিনি অনুমতি ছাড়াই খালের একটি অংশ বালু ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে মাছ চাষ শুরু করেছেন।
এ খালের দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার, যার ভেতরে বর্তমানে ৮টি বাঁধ ও কিছু অবৈধ বসতি রয়েছে। ফলে প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সেচের পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের ইরি-বোরো ধান আবাদ এবং গবাদি পশুপালন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে খালটির বিভিন্ন অংশে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। গত বছর প্রশাসনের অভিযানে খালটি উন্মুক্ত হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম এর সুফল পাবো। কিন্তু আবার খাল দখল হওয়ায় আমরা হতাশ।”
অভিযানের সময় উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত। তিনি খাল দখলমুক্ত করতে কুশলা ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়েছিলেন। কিন্তু পুনরায় খাল দখল হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একাধিক গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জেলা প্রশাসক ও কোটালীপাড়া ইউএনওর কাছে দাবি জানাই, অবিলম্বে সরকারি খাল দখলমুক্ত করা হোক এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ প্রসঙ্গে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমাদের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কুশলা-রাধাগঞ্জ খালের এক কিলোমিটার অংশ শিগগিরই দখলমুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকার ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে শিগগিরই খালটি পুনরায় দখলমুক্ত হবে।