বাগেরহাটে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একীভূতকরণসহ চার দফা দাবিতে বাগেরহাটে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে সেবাদান কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একীভূতকরণ বা অন্য বিতরণ সংস্থার মতো কোম্পানি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি, সব চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী করা, চাকরিচ্যুত ও বরখাস্তকৃতদের পুনর্বহাল, মামলা প্রত্যাহার এবং বদলি/বরখাস্ত সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন বাস্তবায়ন। এছাড়া ১৭ আগস্ট ২০২৫ থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের পূর্বের পদে ফেরানো, লাইনক্রুদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, আন্দোলনে যোগ দিতে না পারা পাঁচজন লাইনক্রুকে পুনর্বহাল এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণও তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে।
জরুরি সেবা নিতে আসা এক গ্রাহক রুহুল আমিন জানান, তিনি ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেও অফিসে কাউকে পাননি। তার মতো আরও অনেক গ্রাহক সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। তবে কর্মবিরতির বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। তাদের দাবি, গণমাধ্যমে বক্তব্য দিলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শুশান্ত রায় জানান, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে গেছেন। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কর্মবিরতি কতদিন চলবে তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে সাধারণ গ্রাহকরা দ্রুত সমাধান কামনা করছেন।