ময়মনসিংহের ভালুকায় হারানো চেকের সম্ভাব্য অপব্যবহার ও জালিয়াতির আশঙ্কায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড মুন্সিভিটা এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মোঃ শফিকুল আলম (৪৯)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলা নং-৬৩০/২০২৫, ধারা ৯৮ ফৌঃ কাঃ বিঃ অনুযায়ী এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শফিকুল আলমের ইউসিবি ব্যাংক, ভালুকা শাখার হিসাব নং ০১০৩২ ০১০০০০৩৪৬৮৮-এর একটি অলিখিত ও অসম্পাদিত চেক (নম্বর-১৩০৫৫১৮) গত ১৪ আগস্ট সকালে মেজর ভিটা থেকে মুন্সির ভিটা এলাকায় হারিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক ম্যানেজারকে লিখিতভাবে জানান। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট ভালুকা মডেল থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২৯৬) করেন।
এদিকে ২৬ আগস্ট জানা যায়, হারানো ওই চেকটি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড জামুরভিটা এলাকার শাহাদাত হোসেনের ভাড়াটিয়া মোঃ খাইরুল বাশার (৪৭)-এর কাছে চলে গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে অভিযুক্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, খাইরুল বাশার চেকটি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এজন্য আদালতের কাছে তিনি চেক উদ্ধারে তল্লাশি পরোয়ানা (এস/ডব্লিউ) ইস্যুর আবেদন করেছেন। মামলার নথিতে একাধিক সাক্ষীর নামও উল্লেখ রয়েছে।
চেক জালিয়াতি বা চেক সংক্রান্ত প্রতারণা দেশে নতুন কিছু নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হারানো চেক বা অসম্পাদিত চেকের অপব্যবহার রোধে ব্যাংক এবং গ্রাহক উভয়েরই সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত হিসাব পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক লেনদেন নজরে আনা এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের কার্যকর উপায়।
এ ঘটনায় ভালুকা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, আদালতের দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।