পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে একের পর এক বৈরী আবহাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। আশানুরূপ ইলিশ না মেলায় এবং ঘন ঘন সাগর উত্তাল হওয়ায় তারা বাধ্য হচ্ছেন ঘাটে ফিরে আসতে। এতে একদিকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অন্যদিকে দাদন ও ঋণের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
জেলে বশির মাঝি জানান, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় সাগরে যেতে পারেননি তারা। দুই দিন আগে সমুদ্রে গেলেও আবারও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ট্রলারগুলোকে ঘাটে ফিরতে হয়েছে। “যে বাজার নিয়ে গেছি, খরচটাও উঠাতে পারিনি। দাদন আর ঋণের টাকা শোধ করব কীভাবে জানি না। ছেলেমেয়ে নিয়ে কিভাবে চলবো আল্লাহ জানেন,”—বলেন তিনি।
আলীপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান মামুন জানান, সম্প্রতি ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও বারবার নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে জেলেদের ঘাটে ফিরে আসতে হচ্ছে। “প্রত্যেক ট্রলার সাগরে যাওয়ার আগে কয়েক লাখ টাকার বাজার করতে হয়। কিন্তু বারবার ক্ষতিতে পড়ে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছি,” বলেন তিনি।
‘মায়ের দোয়া’ বোটের মাঝি ইউসুফ বলেন, অবরোধ শেষে এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। কয়েক দিন পরপর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাচ্ছে। “বাজার সদায় করে সমুদ্রে নামলে দুই এক দিন পরই সাগর উত্তাল হয়ে পড়ে। তখন কোনো উপায় না দেখে ঘাটে ফিরে আসতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে,” তিনি আক্ষেপ করে জানান।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের আবহাওয়া এখন অনেক বেশি অস্থির। “গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বেশি ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, তাই জেলেদের বারবার ঘাটে ফিরতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলে ইলিশের ভালো মৌসুম আসবে বলে আশা করছি।”
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইলিশ বড় অবদান রাখলেও উপকূলের হাজারো জেলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দাদন ও ঋণের চাপে জেলেদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় অনেকেই পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।