সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ৭নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের শুড়িগাঁও জামে মসজিদ মক্তবের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা রহমত আলীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। ভুক্তভোগী ১১ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী প্রতিদিনের মতো মক্তবে আরবি শিক্ষা নিতে আসে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেদিন পড়াশোনা শেষে মাওলানা রহমত আলী তাকে মসজিদের ইমাম কক্ষে ঝাড়ু দিতে পাঠান। সেখানে একা পেয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি।
প্রথমে ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখলেও, পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে ঘটনা প্রকাশ করে। তাকে দ্রুত দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি শালিসের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ইমামকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রহমত আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত মাওলানা রহমত আলী (৪৫) উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের হাবিবনগর গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শুড়িগাঁও জামে মসজিদের ইমাম ও চামতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
স্থানীয়রা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহিদুল হক বলেন, “অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলাটি রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”