ইকসু গঠনে নতুন প্ল্যাটফর্ম, সংবাদ সম্মেলনেই ফাটল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগঠন (ইকসু) গঠনে নতুন প্ল্যাটফর্ম যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ইকসু গঠন আন্দোলন’ নামে এই প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেন আট শিক্ষার্থী।
এসময় তারা বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত না ইকসুর রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন হবে ততদিন এই আন্দোলন চলমান থাকবে। এছাড়াও ইকসু গঠন আন্দোলনের আগামী এক সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।’ তবে এই সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ একযোগে সেখান থেকে ওয়াকআউট করেন।
ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ‘ইকসু সকল শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি, কিন্তু এখানে যারা সংবাদ সম্মেলন করছে তারা পূর্বে কারো সাথেই আলোচনা করেনি। কর্মসূচি কি হবে, কিভাবে ইকসু দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এ বিষয়ে কিছুই আলোচনা হয়নি। আমাদের সংবাদ সম্মেলনের মাত্র ৩০-৪০ মিনিট পূর্বে জানিয়েছিল। ইকসু যৌক্তিক দাবি হওয়ায় এই অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু এখানে ডেকে আমাদের দর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়েছে। পূর্বে কোন রকম আলোচনার সুযোগও দেওয়া হয়নি। তারা কয়েকজন নিজেদের মত সংবাদ সম্মেলন করছে, আমরা দর্শকের মত পিছনে বসে শুনেছি। এখানে ইকসু বাস্তবায়নের চাইতে কেউ কেউ নেতা হওয়ার চেষ্টায় বেশি ভূমিকা রাখছে বলে মনে হয়েছে।’
একইভাবে কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই কেন?কাদের সাথে আলোচনা করে সংবাদ সম্মেলন করছেন? ছাত্রলীগের অন্যায় কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন। এছাড়াও ক্যাম্পাসে চলমান আলোচিত ইস্যু সাজিদ হত্যা ও ফ্যাসিবাদী শিক্ষকদের বিচারকে আড়াল করতেই এরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।’
সংবাদ সম্মেলন করা আট শিক্ষার্থী হলেন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বোরহান উদ্দিন, আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের হাসিব আল সজিব, ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রাকিবুল ইসলাম, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাজ্জাতুল্লাহ শেখ, আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সায়েম আহম্মেদ, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আহমাদ আল আলামিন ও একই শিক্ষাবর্ষের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের জুলকারনাইন দোলন।