শিক্ষক মৃণাল কান্তির ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ফেনী জেলা শিক্ষক সমিতি

শরিষাদি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি দেবনাথের ওপর হামলার ঘটনায় ফেনী জেলা শিক্ষক সমিতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) ফেনী শহরের বাঁশপাড়ায় শিক্ষক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদের কথা জানান সংগঠনের সভাপতি এটিএম সামছুল হক চৌধুরী।
সমিতির সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, সমিতির অন্যান্য সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি মৃণাল কান্তিকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে মৃণাল কান্তি বিদ্যালয়ে যেতে পারছিলেন না। অসদাচরণের অভিযোগ এবং ইস্কনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি স্থানীয় বাধার মুখে পড়েন। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য মৃণাল শিক্ষক সমিতির সভাপতির শরণাপন্ন হন।
পরবর্তীতে সমাধানের লক্ষ্যে কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মৃণালকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করান। এ সময় স্থানীয়রা প্রবল আপত্তি জানালেও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে তারা ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তবে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে শরিষাদি রেললাইনের পাশে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মৃণালের ওপর হামলা চালায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং সভাপতির জামাও রক্তে ভিজে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর চৌধুরী, ফেনী মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নুর উল্লাহ, রুহিতিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম মনির আহমদ ভূঁঞা, পৌর বালিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক শহিদ উল্লাহ, ধর্মপুর আমিন উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর আলম ভূঁইয়া, ফাজিলপুর জিন্নাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলমসহ সমিতির একাধিক নেতা।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের সভাপতি এডভোকেট নুর ইসলাম জানান, সমিতির সভাপতির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। মৃণালের বিদ্যালয়ে আসার খবর পেয়ে অভিভাবক সমাবেশ স্থগিত করা হয়, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে মৃণালের বেতন বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষক মৃণাল কান্তির ওপর হামলার ঘটনায় শিক্ষক সমাজে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শিক্ষক সমিতি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।