পাইকগাছায় আদলতের রায় পেয়ে ২০ বছর পর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার

দীর্ঘ দুই দশকের আইনি লড়াইয়ের পর খুলনার পাইকগাছায় অবশেষে পুনরুদ্ধার হলো বে-দখল হওয়া ২.১৭ একর জমি। আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার পর জমিটি পুনরায় নিজের দখলে পান মোজাম্মেল হক কাগজীরা।
১৯৭০ সালে পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া ঢ্যামশাখালীর রনজিৎ কুমার সরদাররা উক্ত জমি বিক্রি করেন লক্ষীখোলার মোজাম্মেল হক কাগজীদের কাছে। দলিল নং ৫৪৮৩/৭০ এর অধীনে জমির মূল্য পরিশোধ করে তারা নিয়মিত খাজনা প্রদান ও ভোগ দখলে ছিলেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। জমির সব রেকর্ড, নামজারি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছেই ছিল।
তবে সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ দেখিয়ে রনজিৎ সরদার গং আদালতে বাটোয়ারা মামলা (নং ২০৪/৬৬) দায়ের করে একতরফা ডিগ্রি লাভ করেন। সেই ডিগ্রি দেখিয়ে ২০০৫ সালে তারা জবরদখল করে নেন জমিটি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মোজাম্মেল হক একই বছর আদালতে ডিগ্রি রদের মামলা করেন।
২০১৫ সালে আদালত মোজাম্মেল গংদের পক্ষে রায় দিয়ে ডিগ্রি রদ ঘোষণা করে। তবে প্রতিপক্ষ রনজিৎ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২২ জুলাই ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানী ১৯ নং আপিলে আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে এবং রনজিৎ গংদের ডিগ্রিকে ভূয়া ও বাতিল ঘোষণা করে।
রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর শনিবার মোজাম্মেল কাগজীরা পুনরায় জমি দখল নিয়ে তাতে ধান রোপণ করেন। এ ঘটনার মাধ্যমে দীর্ঘ ২০ বছরের জমি বিরোধের অবসান ঘটে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ রনজিৎ সরদার জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পেতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, এ রায় কেবল একটি পরিবারের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়নি, বরং জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসায় একটি নজির স্থাপন করেছে।