শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা হাইকোর্টে বাতিল

আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলা বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে ড. শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী।
এর আগে, মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না—এই মর্মে রুল জারি করেছিলেন আদালত। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মামলাটি বাতিলের আদেশ দেওয়া হলো।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার রমনা থানায় ড. শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ড. শহিদুল আলম তার ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘কল্পনাপ্রসূত ও অপপ্রচারমূলক’ বক্তব্য ছড়িয়েছেন। এতে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে যাচাই-বাছাই ছাড়া শ্রুতিনির্ভর মিথ্যা তথ্য দিয়ে উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য ‘ক্ষতিকর’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ড. শহিদুল আলম সেই সময় থেকেই অভিযোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তার গ্রেপ্তার ও মামলাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে সমালোচনা করেছিল।
হাইকোর্টের এ রায়ে দীর্ঘ সাত বছর পর আইনি লড়াইয়ের অবসান হলো। এই রায় বাংলাদেশের মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।