নড়াইলে প্রতিবন্ধীর জমি প্রতারণা করে লিখে নেয়ার অভিযোগ

নড়াইল সদরের এক অসহায় প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের জমি প্রতারণার মাধ্যমে দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কমল চন্দ্র পাল (৭০) উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের বাসিন্দা। শারীরিকভাবে অক্ষম এই বৃদ্ধের এক একর ১০ শতক জমি কৌশলে নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন বিলাস গোস্বামী ও নিরব বৈরাগী নামে দুই ব্যক্তি।
এই জমির দাগ নম্বরগুলো হলো: ৪২১৬, ৪২১৯, ৪২২০, ৪২২১, ৪২২৩, ৩৮৭১ ও ৫১৯১, যা সদর উপজেলার আফরা মৌজায় অবস্থিত। জমির মালিক কমল পাল নিঃসন্তান ও চলাফেরায় অক্ষম হওয়ায় অভিযুক্তরা তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং তার স্বজনদের অজান্তে গত ১ জুন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরি করে নেন।
এরপর দ্রুততার সাথে বিলাস তার স্ত্রী পিয়া গোলদার ও নিরব তার স্ত্রী সিথি সরকারের নামে কবলা দলিল সম্পাদন করেন। বিষয়টি টের পেয়ে জমির প্রকৃত মালিক কমল পাল এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করেন এবং জমি ফেরতের আবেদন জানান।
স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তরা জমি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও ২৭ জুলাই রেজিস্ট্রির দিন নির্ধারণের আগে, তারা ২৬ জুলাই পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান, বলে জানিয়েছেন কমলের স্বজনরা।
কমল চন্দ্র পাল বলেন, “আমি এক অসহায় প্রতিবন্ধী। প্রতারণা করে আমার জমি হস্তান্তর করিয়ে নিয়েছে ওরা। এখন আমি কোথায় যাব?”
স্থানীয় বাসিন্দারাবকুল পাল, রূপচাঁদ পাল, অসীম বিশ্বাস ও রেনুকা বিশ্বাসঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “কমলের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়েছে কিছু লোভী মানুষ। প্রশাসনের উচিত এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার ওলিয়ার রহমান বলেন, “অভিযুক্তরা উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে জমি ফিরিয়ে দিতে সম্মত হলেও পরে পালিয়ে গেছে। আমরা আশা করছি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কমল পাল তার জমি ফিরে পাবেন।”
অভিযুক্ত বিলাস গোস্বামী ও নিরব বৈরাগী বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।