কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শাস্তির মুখে পড়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আরও চার নেতা। দলের ভেতরের সংকট ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে ঘিরে বিএনপির এই অস্থিরতা প্রকাশ্যে এসেছে।
১২ জুলাই অনুষ্ঠিত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল ঘিরেই শুরু হয় উত্তেজনা। ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপিতে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে দলের মহাসচিবের ভাই ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন কাউন্সিলের ফলাফল ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে, যা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুলাই বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক টিএম মাহবুবুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর ওই বহিষ্কারাদেশের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। ৩ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩০ জুলাই বিক্ষোভ, ৩১ জুলাই মানববন্ধন এবং ২ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের দায়ে এবার শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে আরও চারজন নেতাকে।
১ আগস্ট প্রকাশিত পৃথক দুই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি জুলফিকার আলী শাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ চৌধুরীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। তাদের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা কার্যালয়ে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
(স্বাক্ষরিত: মাসুদুল ইসলাম মুন্না, আহ্বায়ক এবং কামরুজ্জামান কামু, সদস্য সচিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল)
একই দিনে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ইমরান মাহমুদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস আলী ও সাদ্দাম হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে।
উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করেন এবং বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেরণ করেন।