এলাকাবাসীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চেয়ারম্যান মুকুল খান

মো: সাইফুর রশিদ চৌধুরী, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতি ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাফিজুর রহমান খান (মুকুল খান) আর নেই। গত রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
মুকুল খান ছিলেন বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বঙ্গবন্ধু কলেজের সাবেক ভিপি এবং গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ‘সোয়ান ফোম’-এর স্বত্বাধিকারী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ খবির খানের বড় ভাই। তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রচার হওয়ার পর থেকে পুরো মাঝিগাতি ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
১ আগস্ট (শুক্রবার) আছরের নামাজের পর তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় মাঝিগাতি হাইস্কুল মাঠে। হাজারো মানুষ, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে, শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হন।
জানাজার আগে গোপালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) মতিয়ার রহমানের কমান্ডে পুলিশের একটি চৌকস দল ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার শেখ আলমগীর হোসেন মরদেহে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থান — মাঝিগাতির কোনাগ্রাম গ্রামে দাফন করা হয়।
জানাজার আগে মুকুল খানের ছোট ভাই খবির খান ও বড় ছেলে আরমান খান সকলের কাছে তাঁর ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জানাজায় গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এইচ খান মঞ্জু, এবং জামায়াত ইসলামী গোপালগঞ্জ জেলার সাবেক আমির অধ্যক্ষ আজমল সরদারসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মরহুম মুকুল খান রেখে গেছেন দুই পুত্র, ছয় কন্যা ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী। এলাকাবাসীর ভাষায়, তিনি ছিলেন একজন সদালাপী, মানবিক ও জনবান্ধব নেতা, যাঁর অভাব সহজে পূরণ হবার নয়।