নড়াইল জেলার কৃষক ও কৃষাণীদের জন্য প্রশিক্ষণ মানেই এখন শুধু জ্ঞান নয়, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাবৃত্তি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের “পার্টনার” প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে ফিল্ড স্কুল প্রোগ্রাম, যা বদলে দিচ্ছে এখানকার কৃষিভিত্তিক জীবনের ধারা।
নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে পার্টনার ফিল্ড স্কুল ও কৃষক সেবা কেন্দ্র। প্রতিটি স্কুলে ২৫ জন কৃষক ও কৃষাণীর একটি করে গ্রুপ তৈরি করে বাস্তবভিত্তিক দশদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রবি প্রকল্পের অধীনে প্রতিজন প্রশিক্ষণার্থী পাচ্ছেন ২ হাজার টাকার ভাতা ও প্রতিদিন নাস্তার সুবিধা, যা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বাড়িয়েছে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ।
কালিয়া উপজেলার উড়সী গ্রামের প্রশিক্ষণার্থী আজিজুল গাজী বলেন, “বাপদাদার আমলে কৃষিকাজ করলেও এত কিছু কখনো শিখিনি। বীজ সংরক্ষণ, কীটনাশক ব্যবহারের নিয়ম, আধুনিক চাষাবাদের কৌশল এখন অনেকটাই পরিষ্কার।” তিনি উপজেলা কৃষি অফিসার ইভা মল্লিকের নিয়মিত তদারকির প্রশংসা করে বলেন, “তিনি আমাদের খুব উৎসাহ দিয়েছেন।”
একই গ্রামের শেফালী বেগম বলেন, “আমরা ১০টি ক্লাস করেছি, প্রত্যেকে টাকা ও নাস্তা পেয়েছি। নতুন অনেক কিছু শিখেছি যা কাজে লাগিয়ে ভালো ফলন পাবো।”
বাঁকা গ্রামের আছিয়া খানম জানান, “এই স্কুলে কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার ও বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতি শিখেছি। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র পেয়েছি যা ভবিষ্যতে আমাদের কাজে লাগবে।”
কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক জানান, “আমাদের উপজেলার ১৪টি স্কুল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠনের পাশাপাশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
নড়াইল জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে আধুনিক কৃষি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারছে এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে সকল প্রশিক্ষণার্থী তাদের অধিকার সঠিকভাবে পান।