ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির দুই নেতার বহিষ্কার আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে ঢাকামুখী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তিন দিনের সময়সীমা বেধে দিয়ে নেতারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—নিষ্পত্তি না হলে চলবে আরও কঠোর আন্দোলন।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৬টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী ও মীর রাজিউর রহমান আসাদ। আসাদ তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন ১২ জুলাইয়ের কাউন্সিলে এসে ফলাফল ঘোষণা করে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। কিন্তু প্রকৃত তদন্ত না করে কিছু কুচক্রী মহল কেন্দ্রকে ভুল তথ্য দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা (কেন্দ্রীয় নেতারা) সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন কারা হামলার সঙ্গে জড়িত। অথচ অভিযোগহীনভাবেই আমাদের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
মীর রাজিউর রহমান আসাদ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এই আদেশ যদি তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে আমরা ঢাকামুখী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়—বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ আলম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ড. টি এম মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “১২ জুলাইয়ের কাউন্সিলে সংঘটিত হানাহানি ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সৈয়দ আলম (ছাতা প্রতীক) ও আবু হায়াত নুরন্নবী (চেয়ার প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ছাতা প্রতীকের প্রার্থী ২ ভোটে এগিয়ে থাকলেও, তা বাতিল করে ফলাফল ড্র ঘোষণা করা হয়।
সাধারণ সম্পাদক পদে ড. টি এম মাহবুবুর রহমান (ঘোড়া প্রতীক) বিজয়ী হন। ভোটগ্রহণ চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ১৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের ফলাফল স্থগিতের ঘোষণা দেন এবং বহিষ্কারের সুপারিশ করেন। কেন্দ্রীয় কমিটিও তা অনুমোদন করে। তবে স্থানীয় নেতাদের দাবি, বহিষ্কৃতরা আন্দোলনের মাঠের পরীক্ষিত সৈনিক—তাদের ছাড়া সংগঠনে প্রাণ থাকবে না।