কোটালীপাড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবরে শতাধিক দোকানপাট সরিয়ে নিলো দখলকারীরা

সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের আগে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা শতাধিক দোকানপাট নিজেরাই সরিয়ে নিয়েছেন দখলকারীরা। বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি উচ্ছেদকারী টিম অভিযান চালাতে গিয়ে পশ্চিমপাড়া ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় এমন চিত্র দেখতে পান।
এই ঘটনায় এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে। হোটেল ব্যবসায়ী নাসির শেখ বলেন, “২০ বছর ধরে এই জায়গায় দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিলাম। ১৪ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলাম। আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।” মিষ্টির দোকানের মালিক দেলোয়ার শেখ জানান, মাসে ১৪ হাজার টাকা ভাড়া পেতেন দোকান ঘর থেকে—এটাই ছিল তার একমাত্র আয়।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জুলাই মৌখিকভাবে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দোকান মালিকরা নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন। পশ্চিমপাড়ার এই অংশে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের জমিতে দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বুধবার সকাল থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে সওজ বিভাগ। স্থানীয়রা জানায়, কোটালীপাড়ায় ওয়াপদার হাট ও ঘাঘর বাজারের পর এটি ছিল এ অঞ্চলের তৃতীয় ধাপের বড় উচ্ছেদ অভিযান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ঠান্ডা শেখ, শীপ্রা ওঝা, মিজানুর রহমান তুহিন ও বিপ্লব রায় বলেন, “এই ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়েই পরিবার চালাতাম। কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন কিভাবে বাঁচবো?”
তারা সরকারের কাছে পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সামিউল কাদের খান বলেন, “সড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো অবৈধ স্থাপনা নিয়মিত উচ্ছেদ করা হবে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, মহাসড়কের জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা গড়বেন না।”
অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমীরুল মোস্তফা। সঙ্গে ছিলেন সওজ সার্ভেয়ার শামীম আহমেদ ও কোটালীপাড়া থানা পুলিশের সদস্যরা।