মো: সাইফুর রশিদ চৌধুরী, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১৬ জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনায় আরও একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নতুন এই মামলাটি সহ মোট ১২টি মামলা হয়েছে জেলার বিভিন্ন থানায়। এরমধ্যে ৫টি হত্যা মামলা, ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং ৬টি সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা হয়েছে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার (২৬ জুলাই) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া রিকশাচালক রমজান মুন্সীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার ভাই জামাল মুন্সী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৬ জুলাই, যখন গোপালগঞ্জে এনসিপির ঘোষিত পদযাত্রা ও সমাবেশের দিন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। সহিংসতায় পরে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথেও সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষটি সারাদিনব্যাপী চলতে থাকে।
এই ঘটনায় ৫ জন নিহত হন এবং পুলিশ, সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। সহিংসতার জেরে ৫০০-এর বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলার সদর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া এবং মকসুদপুর থানায় এসব মামলাগুলো রুজু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলাগুলোতে মোট ১০,১৮৩ জনকে আসামি করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক সংঘর্ষজনিত ঘটনায় অন্যতম বড় পরিসংখ্যান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঘটনাটি শুধু গোপালগঞ্জ নয়, বরং সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এনসিপির মতো নবীন দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যদি এভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তবে গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে।