নির্বাচন দেরিতে হলেও বানচাল করতে পারবে না – বিএনপির চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা মুশফিক

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেছেন, “যে যত চেষ্টাই করুক, নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারবে না। হতে পারে কিছুটা দেরি হবে, কিন্তু নির্বাচন হবেই।” তিনি বলেন, “নির্বাচন ছাড়া দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ভোটই সরকারের বৈধতার উৎস। তাই সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করেই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।”
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কসবা উপজেলা মার্কেটের সামনে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পাশ্ববর্তী বড় রাষ্ট্র ভারত কখনো আমাদের মঙ্গল চায়নি। আমাদের দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ আমাদের নিজেদেরই চিন্তা করতে হবে। আর সেই মঙ্গল একমাত্র আসবে একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমেই।”
আনুপাতিক (PR) পদ্ধতির নির্বাচন প্রসঙ্গে মুশফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি কখনোই পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে যাবে না। আমরা সার্বজনীন ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত দেখতে চাই। পিআর পদ্ধতিতে ৩০টি দল থেকে ৩০ জন নির্বাচিত হলে সেখানে কোনো ঐক্য বা স্থিতিশীলতা আসবে না। সেই সরকার কখনোই স্থায়ী হতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ যাকে ভোট দিবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। বিএনপি যদি হারে, তাতেও সমস্যা নেই। কিন্তু নির্বাচন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক এবং জনগণের রায়ে। সেটাই প্রকৃত গণতন্ত্র।”
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এই প্রস্তাব নিয়ে অনেকে কথা বললেও, আসলে এটি বিএনপিরই পুরনো দাবি। একটি পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরে মুশফিক বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বিএনপি টিকে আছে, কোনো সদস্য দল ছেড়ে যায়নি। বরং তারা আরও ঐক্যবদ্ধ। ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেলেও বিএনপি আছে এবং থাকবে।”
এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিশেষ করে ছাত্র-জনতা—তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবো না। তারা আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
কসবায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলমান সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এখন রাজনীতির নামে ব্যবসা চলছে। মাদক গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে। এই অবস্থা পরিবর্তনে দরকার একটি সুশাসনমূলক সরকার, যা গড়ে তোলা সম্ভব কেবলমাত্র অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমেই।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক কসবা পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইলিয়াস। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল।
এছাড়াও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার নাজমুল হুদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।