মো: সাইফুর রশিদ চৌধুরী, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ সোহেল হাসান এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
২৪ জুলাই ২০২৫, বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রো-ভিসি বলেন, “প্রো-ভিসির আব্দার অন্তহীন” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।”
তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনে তাঁকে হিট প্রকল্পের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ, যেখানে হিট প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় তার পরে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রো-ভিসি ড. সোহেল হাসান আরও বলেন, কোয়ার্টার ভাড়ার বিষয়ে যে তথ্য সংবাদে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটি ও রিজেন্ট বোর্ড ওই কোয়ার্টারকে অফিস কাম বাসা হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং পূর্ববর্তী প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারও একই হারে ভাড়া পরিশোধ করেছেন।
গাড়ির তেলের বিষয়টি নিয়েও প্রতিবেদনটিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই খাতে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং সব হিসাব নিয়মমাফিক হয়েছে।
ব্যাংক লোন প্রসঙ্গে প্রো-ভিসি সাফ জানিয়ে দেন, “আমি অগ্রণী ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় স্যালারি গ্রহণ করি এবং কোনো ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এমন লোন নেওয়া সম্ভবও নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট’-এর প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটি থেকে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি, যাতে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।”
নাস্তার বিল ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও তিনি বলেন, সবকিছুই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী মাত্র এক মাসের বেতন পেয়েছেন এবং নিয়োগ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশেই।
সংবাদ সম্মেলনে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন সংবাদপত্রের জেলা প্রতিনিধি, স্টাফ রিপোর্টার ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রো-ভিসি ড. সোহেল হাসান তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং যে কোনো তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। অভিযোগ-প্রতিরোধে এমন তথ্যভিত্তিক ও প্রকাশ্য বক্তব্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।