গোপালগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে বাল্যবিয়ে: এলাকায় চাঞ্চল্য

মো: শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর স্কুল, পরিবার ও এলাকায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। শিশু অধিকার লঙ্ঘনের এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
জানা গেছে, সদর উপজেলার ঘোষেরচর গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন বেল্লাল শেখ ও রুনা বেগম দম্পতি। তাদের জমজ দুই কন্যা নূর জাহান ও নূর নাহার, দু’জনেই স্থানীয় ১৬৭ নম্বর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গত ৪ জুন ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ওই দিন শিশু নূর জাহানকে তার বাবা-মায়ের সম্মতিতে গোপনে বিয়ে দেওয়া হয় একই এলাকার ভাড়াটিয়া আল ইসলাম খানের ২১ বছর বয়সী ছেলে মাহিম খান মুন্নার সঙ্গে। দুই পরিবারের সম্মতিতে, আইনকে অমান্য করে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনায় শিশুর স্বাভাবিক শৈশব চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষকেরা আরও বলেন, শিশুরা এর ফলে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে এবং শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও শিশু অধিকারকর্মীরাও এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বাল্যবিয়ে শুধুমাত্র একটি শিশুর জীবন নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকি। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিয়ে শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে আইনত অপরাধ হলেও, এখনও অনেক এলাকায় সচেতনতার অভাবে এমন ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসীর মতে, শুধু আইনি ব্যবস্থা নিলেই হবে না, প্রয়োজন সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি। শিশুদের অধিকার রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সকলে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো, বাল্যবিয়ে রোধে শুধু কঠোর আইন নয়, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতা পরিবর্তন সবচেয়ে জরুরি।