মুকসুদপুরে অগ্রণী ব্যাংকের উজানী শাখার ম্যানেজারের অনিয়ম (পর্ব ১)

মামুনুর রহমান সিকদার জুয়েল, গোপালগঞ্জ।। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার উজানী বাজারে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক বিপুল চন্দ্র মৌলিকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ডিপোজিট লেনদেনে গড়িমসি ও নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে যেমন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সাধারণ গ্রাহকদের মাঝেও চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উজানী এলাকার নারী গ্রাহক খাদিজা খানম। তার অভিযোগ, গত ১৫ জুন ২০২৫ তারিখে তিনি অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অ্যাকাউন্ট (নং: ০২০০০২৩৬৯৩৩৫৩) এ ৬ হাজার টাকা স্থানান্তর করেন। কিন্তু ব্যাংকের দেওয়া রশিদ অনুযায়ী, সেদিন মাত্র ৩ হাজার টাকা জমা হয়েছে। বাকি ৩ হাজার টাকা জমা হয় চারদিন পর, ১৯ জুন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। খাদিজা খানম প্রশ্ন তুলেছেন—একই দিনে পাঠানো টাকার অর্ধেক অংশ চারদিন বিলম্বে জমা হলো কেন?
এ ঘটনার পর উজানী শাখার ব্যবস্থাপক বিপুল চন্দ্র মৌলিক দায় চাপান শাখার আরেক কর্মচারী নিমাইয়ের ওপর। এমনকি সাংবাদিকের সামনেই তাকে বরখাস্ত করার হুমকি দেন তিনি। অভিযোগ আছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ম্যানেজার বিপুল চন্দ্র মৌলিক স্থানীয় সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করারও চেষ্টা করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, উজানী শাখায় ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতার চরম অভাব রয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, আর ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা এবং তথ্য গোপন করার প্রবণতা এসব সমস্যাকে আরও গভীরতর করছে।
খাদিজা খানম একা নন—অনুসন্ধানে আরও কয়েকজন গ্রাহকের একই ধরনের ভোগান্তির তথ্য উঠে এসেছে। তাদের অভিযোগ, লেনদেন করতে গেলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়, অথচ পরিশেষে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়। এছাড়া, গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার সার্ভিস চার্জ কেটে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—যখন গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, তখন ব্যাংক কর্মকর্তারা নিজেদের দায় স্বীকার না করে একে অন্যের ওপর দায় চাপান। এতে করে সাধারণ মানুষের ব্যাংকের প্রতি আস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
অগ্রণী ব্যাংকের উজানী শাখায় দালালের দৌরাত্ম নিয়ে আসছে আগামী পর্ব।
চলবে…..